Header Ads

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটে আপনাদর স্বাগতম

রুকনিয়াতের আসল চেতনা বই নোট

 অধ্যাপক গোলাম আজমের "রোকনিয়াদের আসল চেতনা" বইটি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বইটি ইসলামী আন্দোলনের রোকন (সদস্য) বা দায়িত্বশীলদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং কর্মের মান উন্নয়নের উপর আলোকপাত করে। এখানে বইটির প্রধান বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে একটি নোট দেওয়া হলো:




রুকনিয়াতের আসল চেতনা

লেখক:

অধ্যাপক গোলাম আযম

প্রকাশক:

আবু তাহের মুহাম্মদ মাছুম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী


লেখক পরিচিতি:

অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন একজন বিশিষ্ট ইসলামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৬৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং কারমাইকেল কলেজে অধ্যাপনা করেন। “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” আন্দোলনের অন্যতম অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন। দ্বীন প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি বহু বই লিখেছেন। ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।


প্রকাশকের কথা:

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন মূলত নবীগণের আন্দোলনেরই অনুসরণ। এই বইটি মানবিক দুর্বলতার কারণে নিষ্ক্রিয়তা থেকে উত্তরণের নির্দেশনা প্রদান করে। ১৯৯৭ সালের ২৫-২৭ ডিসেম্বর জামেয়া ইসলামিয়া (তামিরুল মিল্লাত) টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে, অধ্যাপক গোলাম আযমের প্রদত্ত ভাষণের ভিত্তিতে এই গ্রন্থটি রচিত।


ইসলামী আন্দোলনের  মর্মকথা:

আল্লাহ মানব জীবনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সব দিকের জন্য বিধান প্রণয়ন করেছেন। এই বিধান রাসূল (সা.)-এর মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। খিলাফতের দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর বিধান কার্যকর করার প্রচেষ্টাই ইসলামী আন্দোলনের মর্মকথা। যুগে যুগে নবী-রাসূলগণ এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের জীবনই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আদর্শ।


আল্লাহর বিধান অন্য কোনো সমাজব্যবস্থার অধীন হতে পারে না:

আল্লাহ তা'আলা মানুষের ওপর তার বিধান মানতে জোর করেননি। কিন্তু মানুষের তৈরি কোনো সমাজব্যবস্থা বিধানহীন থাকতে পারে না। তাই অনেক সময় স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী শ্রেণি নিজেদের মনগড়া বিধান প্রচলিত করে।

নবীগণ যখন আল্লাহর বিধান অনুসরণ করতে সমাজকে আহ্বান করেন, তখনই এই সুবিধাবাদী মহল বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। সত্য ও মিথ্যার এই সংঘাতের নামই ইসলামী আন্দোলন। সমাজে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে পরাস্ত করতে হবে।


জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নবী-রাসূলগণের জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহের আদর্শ অনুসরণ করে পরিচালিত একটি আন্দোলন। ইসলামী সমাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। রাসূল (সা.) যেভাবে একটি দল গড়ে তুলেছিলেন, যারা ইসলামের বিধি-বিধান মেনে চলতে প্রস্তুত ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচিও তেমনই একদল আদর্শ মানুষ তৈরির চেষ্টা করে।

জামায়াতের দাওয়াত গ্রহণ করে যারা ধাপে ধাপে অগ্রসর হন, তারা এক পর্যায়ে রুকনিয়াতের শপথ নেন। শপথগ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে তাঁরা ইসলামী আন্দোলনের পথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন। এই পথ অনুসরণ করলে একজন রুকন আদর্শ মুসলিম হয়ে উঠতে পারেন, যা জামায়াতের চূড়ান্ত লক্ষ্য পূরণের জন্য অপরিহার্য।


রুকনদের মান কমে যাওয়ার কারণ:

১. দুনিয়াবি দাবির প্রাধান্য:

জীবনের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্বীন প্রতিষ্ঠা। তবে কখনো দুনিয়াবি স্বার্থ, যেমন আর্থিক স্বচ্ছলতা বা আরাম-আয়েশ, জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে গেলে দ্বীনের দাবিগুলো অবহেলিত হয়। ফলে রুকনের মান স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

২. দারিদ্র্য ও জান-মালের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা:

আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১৫৫ নং আয়াতে বলেন, মানুষের ধৈর্য এবং ঈমান পরীক্ষা করার জন্য দারিদ্র্য, ক্ষতি বা কষ্ট প্রদান করেন। যার মধ্যে দুর্বলতা থাকে, তিনি পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। সচেতন রুকন এই পরীক্ষার বিষয়টি উপলব্ধি করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন, কিন্তু অসচেতনরা এটি দ্বীনের কাজ না করার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেন। এর ফলে তারা রুকনিয়াতের নিম্ন স্তরেও টিকে থাকতে ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দেন বা ছাঁটাই হন।


পরীক্ষা নেওয়ার কারণ:

১. যোগ্যতা যাচাই করা:

আল্লাহ খিলাফতের দায়িত্ব প্রদানের আগে মানুষের যোগ্যতা যাচাই করেন। সূরা আন-নূর (৫৫ নম্বর আয়াত) অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি রাসূল (সা.)-এর সাহাবীদেরও মদিনায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আগে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

২. মান উন্নত করা:

পরীক্ষা মানুষকে পরিশুদ্ধ এবং শক্তিশালী করে। যারা পরীক্ষায় টিকে থাকেন, তারা ইসলামী আন্দোলনের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হন। অন্যদিকে যারা ব্যর্থ হন, তাদেরকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। যদি ত্রুটি সংশোধন না হয়, তবে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

৩. আল্লাহর বাছাই নীতি:

পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের বেছে নেন এবং দুর্বলদের ছাঁটাই করেন। যারা ধৈর্য ধরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত হওয়ার মর্যাদা লাভ করেন।

৪. আত্মগঠনের সুযোগ:

পরীক্ষা রুকনদের নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুযোগ দেয়। এটি আত্মশুদ্ধি ও উন্নতির মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

৫. দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধি করানো:

যারা আল্লাহর পথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তারা বুঝতে পারেন যে ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কতটা সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।


রুকনিয়াতের আসল চেতনা:

রুকনিয়াতের আসল চেতনার অভাবেই রুকনিয়াতের মান কমে যায়।
আসল চেতনা ৫ টিঃ

১. দ্বীনি যিন্দেগী তরক্কীর পথে রুকনিয়াতের স্থান কোথায়।
২. মান কমার মূল কারণ সম্পর্কে সতর্কতা।
৩. আল্লাহর বাছাই ও ছাটাই নীতি সম্পর্কে সাবধানতা।
৪. জনগণের নিকট সত্যের সাক্ষ্য বহনের দায়িত্ব।
৫.আল্লাহর ব্যাংকে জমা বৃদ্ধির ধান্দা।


১. দ্বীনি যিন্দেগী তরক্কীর পথে রুকনিয়াতের স্থান কোথায়

ফরজ ও ওয়াজিব পালন এবং হারাম থেকে বিরত থাকা মুমিনের সর্বনিম্ন স্তর। এটি রুকন হওয়ার জন্য আবশ্যিক শর্ত। ফলে রুকনের মানকে সর্বোচ্চ কামিল মুমিনের সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। যদিও অনেকের কাছে রুকন হওয়া জটিল মনে হতে পারে, প্রকৃতপক্ষে এটি মুমিনের জন্য ন্যূনতম স্তর।

দ্বীনি জীবনের উন্নতি একটি সিঁড়ির মতো। এই সিঁড়ির সর্বোচ্চ ধাপ সাহাবায়ে কেরামদের মান, আর রুকন হওয়া এই সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখা। তাই দ্বীনি জীবনের মানোন্নয়নের জন্য রুকনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রুকনদের দায়িত্ব হলো নিজের জীবনকে উন্নত করতে আত্মগঠনে মনোযোগী হওয়া। এর জন্য প্রয়োজন:

  • দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা।
  • নিয়মিত ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা।
  • আল্লাহর পথে অঙ্গীকার রক্ষা করা।
  • সদ্ব্যবহার চর্চা করা।
  • আল্লাহর দরবারে নিয়মিত দোয়া ও প্রার্থনা করা।

নিজেকে উন্নত করার পাশাপাশি মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো এবং যারা দাওয়াত গ্রহণ করে তাদের যথাযথ সময় প্রদান করা, রুকনের অপরিহার্য দায়িত্ব। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

যারা নিষ্ঠার সাথে এই কাজ সম্পন্ন করেন, আল্লাহ তাদের "আনসারুল্লাহ" (আল্লাহর সাহায্যকারী) মর্যাদা দান করেন। দ্বীনি কাজ ও আত্মগঠনে নিষ্ঠার সাথে অগ্রসর হলে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।


২. মান কমার মূল কারণ সম্পর্কে সতর্কতা

রুকনিয়াতের মান কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে:

  1. দুনিয়াবি জীবনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি:
    আত্মসমালোচনার সময় লক্ষ করতে হবে, আমার যাবতীয় কর্মকাণ্ডে কি আমি দ্বীনের চেয়ে দুনিয়ার জীবনের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি? যদি দুনিয়াবি স্বার্থ এবং আরাম-আয়েশ জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে যায়, তবে রুকনিয়াতের মান স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।

  2. পরীক্ষার সম্মুখীন হলে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব:
    পরীক্ষার সময় দায়িত্বশীল ভাইদের জানিয়ে তাদের থেকে দোয়া চাওয়া উচিত। সবর ধারণ করা এবং আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এ সময়ে অপরিহার্য।

  3. ইখলাসের অভাব:
    রুকনদের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আন্তরিক থাকা অপরিহার্য। ইখলাস ছাড়া দ্বীনি দায়িত্ব পালনের মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

  4. পরীক্ষার ভয় ও সাহসের অভাব:
    পরীক্ষার সম্মুখীন হলে সাহস এবং ধৈর্যের অভাবে কেউ কেউ দ্বীনের পথ থেকে সরে যেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রুকনদের উচিত আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা এবং নিজেকে সংশোধনের জন্য সচেষ্ট থাকা।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:

  • আত্মসমালোচনা ও দ্বীনি আত্মশুদ্ধির চর্চা করা।
  • দায়িত্বশীল ও দ্বীনি ভাইদের কাছ থেকে দোয়া ও পরামর্শ নেওয়া।
  • সবর ও ইখলাসের সাথে দায়িত্ব পালন করা।
  • দুনিয়ার চেয়ে দ্বীনকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া।

এসব বিষয় সচেতনভাবে মেনে চললে রুকনিয়াতের মান বৃদ্ধি পাবে এবং তা সংগঠনের উন্নয়নে সহায়ক হবে।


৩. আল্লাহর বাছাই ও ছাঁটাই নীতি সম্পর্কে সতর্কতা:

মৃত্যু পর্যন্ত আল্লাহর পথ অনুসরণ করতে দৃঢ় চেষ্টা ও দোয়া করা জরুরি। যখন আল্লাহ কাউকে দ্বীনের পথে চলার তাওফিক দেন, তখন সে বুঝতে পারবে যে আল্লাহ তাকে তাঁর নির্বাচিত বান্দা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তবে, যদি কেউ পরীক্ষায় ফেল করে এবং ধৈর্য বা সাহসের অভাবে দ্বীনের পথে চলার শক্তি হারায়, তাহলে তাকে বুঝতে হবে যে সে আল্লাহর বাছাই থেকে বাদ পড়ে গেছে।
সূরা হজ্জের শেষ আয়াত এবং সূরা নিসার আয়াত ৫৯ এ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা ভয়, লোভ এবং বিপদকে উপেক্ষা করে ইসলামী আন্দোলনের পথে দৃঢ়ভাবে টিকে থাকে, তারা আল্লাহর বাছাইয়ের অংশ। আর যারা দুর্বলতার কারণে পথ হারিয়ে ফেলে, তারা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়।
তবে, যদি আমরা এই বাছাইয়ের গুরুত্ব অনুভব করি এবং বাছাইয়ের চেতনা বজায় রাখি, তবে আল্লাহর কাছে এই গৌরব থেকে বঞ্চিত হবার আশঙ্কা থাকবে না। এজন্য ছাঁটাই থেকে রক্ষা পেতে এবং হেফাজত প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা প্রয়োজন।



৪. জনগণের নিকট সত্যের সাক্ষ্য বহনের দায়িত্ব:

কুরআনের বিভিন্ন সূরায় ঈমানদার ও সৎকর্মশীল আল্লাহর বান্দাদের যে গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, তা মানুষের চিন্তা ও মননকে উদ্দীপিত করার উদ্দেশ্যে। যারা রাসূল (সা.)-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এসব গুণাবলীর অধিকারী হয়েছে, তাদের প্রশংসা করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।

মানবিক গুণাবলীর অধিকারী ব্যক্তিদের প্রতি আকর্ষিত হওয়া স্বাভাবিক। যখন রুকনরা এই মানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন জনগণের মাঝে আশা ও আস্থা সৃষ্টি হয় যে, জামায়াতে ইসলামীকে যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তবে তা দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।


৫. আল্লাহর ব্যাংকে জমা বৃদ্ধির ধান্দা:

আল্লাহর কাছে যা কিছু জমা হবে, তা শুধুমাত্র তাঁরই। সুতরাং, রুকনদের লক্ষ্য হওয়া উচিত তাদের সঞ্চয় বৃদ্ধি করা, যা আল্লাহর পথে দান করে হবে। ইয়ানতের পাশাপাশি, তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর পথে আরও বেশি কিছু দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত, যাতে কুরবানির অনুভূতি গভীর হয়।

আল্লাহর জন্য খরচ করলে তিনি তার বান্দাকে বরকত দেন এবং বিপদ থেকে রক্ষা করেন—এটি একটি দৃঢ় বিশ্বাস হওয়া উচিত। এই অনুভূতি মনেপ্রাণে অনুভব করলে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর নিকট জমা থাকা সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।


চেতনার সুফল:

উপরোক্ত পাঁচটি চেতনা অনুসরণ করলে সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করা সহজ হবে। এই উন্নতির কোনো সীমা নেই। রুকন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজস্ব চেষ্টায় অবিরাম উন্নতি সাধন করতে হবে। পাশাপাশি, আরও অনেককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হবে। এটি একটি ইঞ্জিন এবং বগির মতো—ইঞ্জিন যেমন বগিকে আগিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি একজন রুকনও তার উন্নতি এবং অন্যদের উন্নতির জন্য কাজ করে।

যদি চেতনা সচেতনভাবে জাগ্রত রাখা হয়, তবে উভয় দায়িত্ব—নিজের উন্নতি এবং অন্যদের গাইড করা—যোগ্যতার সঙ্গে পালন করা সম্ভব হবে।


কর্মীদের জন্য আদর্শ হতে হবে:

রুকনদের মান উন্নত হলে তারা সংগঠনের কর্মীদের জন্য আদর্শ হয়ে উঠবে। অন্যথায়, তাদের অগ্রগতি ও সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি করবে। যখন রুকনরা তাদের মান উন্নত করবে এবং সংগঠনের সম্পদে পরিণত হবে, তখনই আন্দোলনের অগ্রগতি সম্ভব হবে। সংগঠনের জন্য সময়, শ্রম এবং অর্থের সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করার জন্য রুকনদের মান সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি সংগঠনের সঠিকভাবে কাজ করার এবং সফলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান উপায়।


চেতনার অভাব:

জামায়াতে ইসলামীতে রুকন হতে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়, যা আবেগের ভিত্তিতে নয়, বরং সচেতন চেষ্টার মাধ্যমে অর্জিত হয়। রুকন হওয়ার মাধ্যমে একটি বিশেষ দায়িত্ব, মর্যাদা এবং চেতনা গ্রহণ করা হয়, এবং এই দায়িত্ব পালন না করলে তা চেতনার অভাবের নিদর্শন।

যদি কেউ আল্লাহর পরীক্ষায় ব্যর্থ হন, তবে তাকে সংগঠন থেকে ছাঁটাই করা হয়। ইকামতে দ্বীনের দায়িত্ব পালনের জন্য এই সংগঠনে যোগদান করা হয়, কিন্তু যদি কেউ আরও উন্নত সংগঠনে যোগদানের জন্য পদত্যাগ করেন, তবে তা ব্যক্তিগত দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। হাদিসে বর্ণিত অনুযায়ী, এই ধরনের পদত্যাগ ইসলামিক পথ থেকে বিচ্যুতি হিসেবেই পরিগণিত হয়, যার ফলে সে ব্যক্তি ইসলামের রশি গলা থেকে ছুড়ে ফেলেন।


আল্লাহর দরবারে ধরনা:

আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও দয়া আমাদেরকে দ্বীনের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এ জন্য আমাদের উচিত কৃতজ্ঞতা জানানো এবং আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করা, যাতে তিনি আমাদেরকে এই পথ থেকে বিচ্যুত না করেন। আল্লাহর কাছে ধরণা বা আশ্রয় চাওয়া আমাদের আবেগের বাইরে, একান্ত বিশ্বাস ও নিষ্ঠার বিষয়।

যেহেতু দ্বীনের পথ অনুসরণ করা একটি কঠিন, কিন্তু সম্মানজনক দায়িত্ব, আমাদের উচিত তা দৃঢ়ভাবে পালন করা। এ পথে আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারি না। তাই, প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর দরবারে ধরণা দেওয়া এবং তাঁর কাছে সাহায্য ও হেদায়েত প্রার্থনা করা আমাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন।

এই ধরণা আমাদের অন্তরকে শক্তিশালী করে, এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। এভাবে, আমাদের সমস্ত কাজ এবং প্রতিটি পদক্ষেপ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে।

(বিঃদ্রঃ যদি কোনো বানান ভুল নজরে আসে, তবে দয়া করে নিজ থেকে সংশোধন করার অনুরোধ রইল)।

কোন মন্তব্য নেই

Deejpilot থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.