Header Ads

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটে আপনাদর স্বাগতম

দারসুল হাদিস: আল্লাহর উপর ভরসা করলে আল্লাহ যেভাবে রিজিক বাড়িয়ে দেন

আল্লাহর উপর ভরসা করলে আল্লাহ যেভাবে রিজিক বাড়িয়ে দেন:



উমর বিন আল-খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ আমি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি –

“তোমরা সবাই যদি আল্লাহ’র প্রতি যথাযথভাবে তাওয়াককুল (ভরসা) করো, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাদেরকে সেভাবে রিযক দিবেন, যেভাবে তিনি পাখিদের রিযক দিয়ে থাকেন – তারা ক্ষুধার্ত হয়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর সন্ধ্যায় ভরা পেট নিয়ে ফিরে আসে।”

(জামি’ আত-তিরমিযি – কিতাবুয যুহদ, হাদিস ২৩৪৪; সুনানে নাসাঈ; সুনানে ইবনে মাজাহ – হাদিস ৪১৬৪; মুসনাদে আহমাদ – ১/৩০; সাহিহ ইবনে হিব্বান – হাদিস ৭৩০; মুসতাদরাকে হাকিম – ৪/৩১৮; ইমাম তিরমিযি হাদিসটিকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।)

 

হাদিসটির ব্যাখ্যা

এই হাদিসটি দ্বীন ইসলামের মৌলিক পাঠগুলোর মধ্যে অন্যতম, এটি আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল (ভরসা) করার বিষয়টির ব্যাখ্যায় ভূমিকা রাখে, আর তাওয়াককুল করার বিষয়টি হল আল্লাহ’র রিযক অর্জনের শ্রেষ্ঠ একটি কারন, যেমনটি আল্লাহ বলেন –

“যে কেউ আল্লাহ’র প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য পথ করে দিবেন আর তাকে রিযক দান করবেন তার ধারণাতীত উৎস থেকে; যে ব্যক্তি আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল অবলম্বন করে, তার জন্য তো আল্লাহই যথেষ্ট …” (সূরাহ আত-তালাক, ৬৫ :২-৩)

লোকেরা যদি মুত্তাকী (আল্লাহ’র প্রতি তাকওয়া অবলম্বনকারী) হয় আর আল্লাহ’র প্রতিই ভরসা করে, তবে তিনি তাদের প্রতি যথেষ্ট হবেন – যে পর্যন্ত তাদের পার্থিব কল্যাণ আর আখিরাতের বিষয়গুলো সম্পর্কিত থাকবে। এ বিষয়টি ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত – “আল্লাহ্‌কে হেফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করবেন” – এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

একজন আলিম বলেছিলেন, “একজন ব্যক্তিকে উদ্বেগ করে এমন যে কোন কিছুতেই আল্লাহ’র উপর ভরসা করা তার জন্য যথেষ্ট।”

আল্লাহ’র উপর ভরসা করার অর্থ হল, ব্যক্তি তার স্বার্থ অর্জন আর নিজেকে মন্দ কিছু থেকে হেফাজতের জন্য তার অন্তরকে একান্তভাবেই আল্লাহ’র প্রতি নিয়োজিত করবে – যে পর্যন্ত এই দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়গুলো সম্পর্কিত থাকবে। ব্যক্তির এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে হবে যে, একমাত্র আল্লাহই কোন কিছু দান করেন, তিনিই দান করা থেকে বিরত থাকেন আর একমাত্র তার কারনেই উপকার ও ক্ষতি হয়।

সাইদ বিন জুবাইর বলেছেন, “আল্লাহ’র প্রতি ভরসা করা হল ঈমানের সারমর্ম।”

ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ বলেছেন, “ঈমানের চূড়ান্ত সমাপ্তি হল আল্লাহ’র উপর ভরসা করা।”

আল-হাসান বলেছেন, “আল্লাহ’র প্রতি ভরসা করা অর্থ তো এটাই যে, আল্লাহ ছাড়া বান্দা আর কারো উপর ভরসা করবে না।”

 

আল্লাহ’র প্রতি ভরসা করার বিষয়টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিপরীত নয়     

কোন কাজে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে তো আল্লাহই আদেশ করেছেন আর এটা তো যেকোন ঘটনারই স্বাভাবিক কার্যধারা, তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাটা তাওয়াককুলের বিপরীত নয়, আল্লাহ বলেছেন –

“হে ঈমানদারগণ, (শত্রুর মুকাবিলায়) তোমরা (সবসময়) সতর্কতা গ্রহণ করো (অস্ত্রে সজ্জিত থাকার মাধ্যমে, সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে, শক্তি দৃঢ় করার মাধ্যমে ইত্যাদি উপায়ে) …” (সূরাহ আন-নিসা, ৪ :৭১)

“তোমরা কাফিরদের মুকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সদা সজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দিয়ে আল্লাহ’র শত্রু আর তোমাদের শত্রুদের ভীত-সন্ত্রস্ত করবে, এ ছাড়া অন্যান্যদেরকেও – যাদেরকে তোমরা জানো না কিন্তু আল্লাহ জানেন …” (সূরাহ আল-আনফাল, ৮ :৬০)

“এরপর যখন (জুমুয়ার) নামায শেষ হবে, তখন তোমরা (কাজকর্মে) পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো আর আল্লাহ’র অনুগ্রহ তালাশ করো, আর (বেচাকেনার অবস্থাতেও) আল্লাহ্‌কে বেশী বেশী স্মরণ করো …” (সূরাহ আল- জুমু’আহ, ৬২ :১০)

সাহল আত-তুস্তুরি বলেছেন, “যদি একজন ব্যক্তি কোন কাজের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা বর্জন করে, তবে সে তো সুন্নাহ বর্জন করলো। আর সে যদি আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল করা বর্জন করে, তবে ঈমানকেই প্রত্যাখ্যান করলো। আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল করাটা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাজের ধরণ, আর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাটাও রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অভ্যাস। যে ব্যক্তি তার কাজের ধরনের প্রতি অনুগত, তার তো উচিত নয় রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহ বর্জন করা।”

 

আল্লাহ’র গোলাম কতৃক সম্পাদিত কাজ

আল্লাহ’র গোলাম কতৃক সম্পাদিত কাজ তিন ধরণের –

প্রথম প্রকারঃ আল্লাহ’র আদেশকৃত সৎ কাজ – যা ব্যক্তিকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে আর দোযখ থেকে হেফাজত করে। এ কাজগুলো অবশ্যই আল্লাহ’র উপর ভরসা রেখে আর তার সাহায্য প্রার্থনা করে সম্পাদন করতে হবে। ব্যক্তি যদি প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পাদন না করে তবে সে এই দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তির যোগ্য হবে।

দ্বিতীয় প্রকারঃ আল্লাহ কতৃক আদেশকৃত চিরাচরিত অভ্যাস, যেমন – ক্ষুধা পেলে (হালাল) খাবার খাওয়া, তৃষ্ণা পেলে (হালাল) কিছু পান করা আর শীত অনুভূত হলে নিজেকে (হালাল কোন উপায়ে) উষ্ণ করা। কোন ব্যক্তি যদি এমনভাবে এ ধরণের অভ্যাসগুলো বর্জন করে যা তার ক্ষতির কারন হবে, তবে সে শাস্তির যোগ্য হবে।

এ সত্ত্বেও, আল্লাহ তার কিছু গোলামকে কিছু পরিস্থিতি সহ্য করার ক্ষমতা দান করেন, যে পরিস্থিতি অন্যান্যদের জন্য সহনীয় নয়। উদাহারনস্বরূপ, রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) সাওমে বেসাল (পরপর দুদিন ধরে রোজা রাখা) করতেন, কিন্তু তিনি সাহাবীদেরকে তা করতে নিষেধ করেছিলেন, তিনি তাদেরকে বলেছিলেন, “আমি তোমাদের মতো নই, আমাকে পানাহার করানো হয়।” (বুখারি – কিতাবুস সাওম, হাদিস ১৯৬২; মুসলিম – কিতাবুস সিয়াম, হাদিস ১১০২)

আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে যে তিনি বলেছেন, “আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।” (বুখারি – কিতাবুস সাওম, হাদিস ১৯৬৪; মুসলিম – কিতাবুস সিয়াম, হাদিস ৬১/১১০৫)

তৃতীয় আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে যে তিনি বলেছেন, “আমার জন্য একজন খাদ্য পরিবেশনকারী থাকেন, যিনি আমাকে আহার করান আর একজন পানীয় পরিবেশনকারী আমাকে পান করান।” (বুখারি – কিতাবুস সাওম, হাদিস ১৯৬৩)

এর অর্থ হল, আল্লাহ তাকে ভোজন করান আর শক্তিদান করেন ঐশ্বরিক জ্ঞান ও পুরস্কার দ্বারা – যা তাকে খাবার ও পানীয় ছাড়াই বাঁচিয়ে রাখে। যদি কোন ব্যক্তি এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আর এটির অনুসরণ যদি তাকে আল্লাহ’র আনুগত্য থেকে ফিরিয়ে না দেয়, তবে সে নিন্দিত হবে না। এ সত্ত্বেও, এটি তার জন্য নির্ধারিত কিছু কাজ করা থেকে তাকে বিরত রাখে, (তাই) এটি একটি প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ।

তৃতীয় প্রকারঃ সাধারণ কাজ – যেগুলোর উপর এই পার্থিব জীবন নির্ভর করে। এ ধরণের কাজগুলো কিছু লোকদের জন্য লঙ্ঘিত হতে পারে, যেভাবে আল্লাহ চান। উদাহারনস্বরূপ, ঔষধ ছাড়াই রোগমুক্ত হওয়া। আলিমদের মধ্যে এ নিয়ে ইখতিলাফ আছে যে, ব্যক্তির কি ঔষধ গ্রহণ করা উচিত নাকি আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল করা উচিত।

ইমাম আহমাদের মত হল, এক্ষেত্রে আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল করাটাই অধিকতর ভালো, যদি এটির প্রভাবের উপর ব্যক্তির সমর্থ হওয়ার ক্ষমতা থাকে; যেমনটা আমাদের জানিয়েছেন রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) – “তোমাদের মধ্যে সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে আর বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” তিনি তাদের ব্যাপারে জানিয়েছেন, “তারা কোন দাগ লাগাতো না, ঝাড়ফুঁকের শরণাপন্ন হতো না আর কুযাত্রা মানতো না। তারা কেবল তাদের রবের উপরই তাওয়াককুল করতো।” (বুখারি – কিতাবুর রিকাক, হাদিস ৬৪৭২)

যেসব আলীমগণ ঔষধ গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন তাদের দলীল এই যে, ঔষধ গ্রহণ তো রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রীতিই ছিল, আর তিনি তো সবচেয়ে সেরা কাজটিই চর্চা করতেন। তারা (বরং) এ হাদিসটিকে ঝাড়ফুঁক হারাম হওয়ার দলীল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

এ ধরণের নীতি হয়তো কিছু লোকের জন্য লঙ্ঘিত হবে; এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা থেকে আল্লাহ যাদের জন্য উপায় করে দিয়েছেন, তাদের জন্য এ নীতির লঙ্ঘন দেখা যেতে পারে। একজন ব্যক্তিকে যদি আল্লাহ’র তরফ থেকে অতি মাত্রায় তাওয়াককুল প্রদান করা হয় আর সে জানে যে, তার নিজের কোন প্রচেষ্টা করা ছাড়াই আল্লাহ তাকে রিযক প্রদান করবেন, তবে তার জন্য রিযক সন্ধান বর্জন করা অনুমোদিত। হাদিসটি এ ধারনাই বিশদভাবে তুলে ধরেছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, এই দুনিয়াতে লোকেরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে, কারন তারা তাওয়াককুলের সত্যিকারের অর্থ বুঝতে পারে না। তারা যদি আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুলের ব্যাপারে আন্তরিক হয়, তবে তাদের সামান্য চেষ্টাতেই আল্লাহ তাদেরকে রিযক প্রদান করবেন, যেমনটি তিনি পাখিদের প্রদান করেন – তারা ক্ষুধার্ত পেতে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর সন্ধ্যাতে ভরা পেট নিয়েই ফিরে আসে।

 

পাপের কারনে একজন ব্যক্তি রিযক থেকে বঞ্চিত থাকতে পারে, যেমনটি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একজন বান্দা তার পাপের কারনে রিযক থেকে বঞ্চিত হয়।” (মুসনাদে আহমাদ – ৫/২৭৭, ২৮০; ইবনে মাজাহ – হাদিস ৯০; সাহিহ ইবনে হিব্বান – হাদিস ৮৭২)

জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “একজন ব্যক্তি তার সমস্ত রিযক পাওয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। তাই আল্লাহ্‌কে ভয় করো আর হালাল উপায়ে রিযক খুঁজো। হালাল অর্থ গ্রহণ করো আর অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ বর্জন করো।” (ইবনে মাজাহ – হাদিস ২১৪৪; সাহিহ ইবনে হিব্বান – হাদিস ৩২৩৯-৩২৪১)

উমার বিন আল-খাত্তাব (রাঃ) বলেছিলেন, “বান্দা তো তার তাকদিরে নির্ধারিত রিযক পাবেই। যদি সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ তাকে অনুরূপ রিযক প্রদান করবেন। যদি সে তা অর্জন করতে গিয়ে পাপ করে, সেগুলোর চেয়ে তার আর বেশী কিছু থাকবে না।”

 

যদি একজন ব্যক্তি রিযক খোঁজার জন্য কোন চেস্টাই না করে, তবে সে একজন অক্ষম ও পাপী ব্যক্তি।

আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “মযবুত ঈমানদার আল্লাহ’র কাছে দুর্বল ঈমানদার থেকে প্রিয়, অবশ্য প্রত্যেকের মধ্যেই ভালো বৈশিষ্ট্য আছে। তোমার পক্ষে যা উপকারী ও কল্যাণপ্রদ, সে বিষয়ে আগ্রহ করো, আল্লাহ’র কাছে সাহায্য কামনা করো। হিম্মতহারা হয়ো না, কোন বিপদে পড়লে এমন বলো না – ‘যদি এটা করতাম তাহলে এমন এমন হতো (বা হতো না)।’ বরং বলো – আল্লাহ’র (দেওয়া) তাকদিরে তো এটাই ছিল, তিনি যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। কারন ‘যদি’ শব্দটি শয়তানের কাজ উন্মুক্ত করে দেয়।” (মুসলিম – কিতাবুল কদর, ৩৪/২৬৬৪)

একজন ব্যক্তির উচিত কাজ করার পূর্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, এরপর সে কাজের পূর্বশর্ত সম্পাদনের জন্য উদ্যমী হয়ে চেষ্টা করা, আর এরপরই আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল করা। আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল করাটা কোন কাজের পূর্বশর্ত সম্পাদনের জন্য চেষ্টা করার বিপরীত নয়।

মুওাওিয়া বিন কুররাহ থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ উমার বিন আল-খাত্তাবের সাথে কিছু ইয়েমেনি লোকের সাক্ষাৎ ঘটলো, তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কারা ?” তারা বলল, “আমরা আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুলকারী।” তিনি বললেন, “না, যে ব্যক্তি আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল করে, সে তো প্রথমে চেষ্টা করার জন্য উদ্যমী হয়, এরপরই সে আল্লাহ’র উপর তাওয়াককুল করে।”

 

আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল করার অর্থ হল এই যে, ব্যক্তি খুব ভালোভাবেই জানে যে আল্লাহ তার রিযকের নিশ্চয়তা দেন আর সেই রিযক ঈমানদার ও কাফির উভয়ের জন্যই তাকদিরে নির্ধারিত রয়েছে, যেমনটি আল্লাহ বলেন –

“আর ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার রিযক আল্লাহ’র যিম্মায় নেই …” (সূরাহ হুদ, ১১ :৬)

আল্লাহ সমস্ত জীবিত সৃষ্টিকেই রিযক দিয়ে সাহায্য করেন, যদিও সেগুলোর অনেকেই দুর্বল আর রিযক অর্জনে অক্ষম। আল্লাহ আরো বলেন –

“এমন কতো জীবজন্তু আছে যারা নিজেদের খাদ্য মওজুদ রাখে না, আল্লাহই তাদেরকে ও তোমাদেরকে রিযক দান করেন …” (সূরাহ আল-আনকাবুত, ২৯ :৬০)

বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত বেঁচে থাকবে, ততক্ষন পর্যন্ত তার রিযক আল্লাহ কতৃক নিশ্চিত। তারা নিজেরা রিযক অর্জনের চেষ্টা না করলেও হয়তো আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন।

 

ইমাম আহমাদের একজন অনুসারী আল-মুসান্না আল-আনবারি বলেছিলেন, “রিযক নিয়ে উদ্বেগ করো না আর আল্লাহ’র দেওয়া রিযকের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ো না।”

আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুলের ফল হল আল্লাহ’র নির্ধারিত তাকদির নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। যে ব্যক্তির তার সমস্ত বিষয়ই আল্লাহ’র প্রতি সমর্পণ করে আর তার তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, সে তো ইতিমধ্যেই আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুল অবলম্বন করছে। আল-হাসান আর আল-ফুদাইল এভাবেই তাওয়াককুলকে ব্যাখ্যা করেছেন।

ইবনে আবিদ্দুনিয়া বলেছেন, “এক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছিলেন – ‘আল্লাহ’র প্রতি তাওয়াককুলের তিনটি মাত্রা আছে – প্রথমটি হল (তাকদিরের ব্যাপারে) অভিযোগ করা ত্যাগ করা, এটি যুহদের মাত্রা; দ্বিতীয়টি হল (তাকদিরে) সন্তুষ্ট থাকা, এটি আন্তরিক ও সৎকর্মপরায়ণ লোকদের মাত্রা; তৃতীয়টি হল (তাকদিরকে) ভালোবাসা, এটি রসূলদের তাওয়াককুলের মাত্রা।’ ”

একজন ব্যক্তি যখন আল্লাহ’র উপর ভরসা রাখে আর আল্লাহ’র নির্ধারিত তাকদিরের উপর সবর করে, সে তখনই একজন সবরকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়। যদি সে আল্লাহ’র নির্ধারিত তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকে, তবেই সে একজন সন্তুষ্ট ব্যক্তি। আল্লাহ’র নির্ধারিত তাকদির ছাড়া যদি সে কোন কিছুই পছন্দ না করে, তবে সে আল্লাহকে মুহাব্বাতকারী।

উমার বিন আবদুল আযিয বলেছেন, “আমার সুখের মূল উৎস হল আল্লাহ’র নির্ধারিত তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।”

 

হাদিস তাফসীরটি ইমাম ইবনে রজব আল-হানবালি (রাহিমাহুল্লাহ)’র কিতাব জামি’ আল উলুম ওয়াল হিকামের ইংলিশ ভার্সন থেকে অনুবাদ করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Deejpilot থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.