Header Ads

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটে আপনাদর স্বাগতম

দারসূল হাদিস: যা না করলে কেউ ঈমানদার হতে পারবে না



আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল আস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউই ঈমান আনলো না যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমাদের চঞ্চল খামখেয়ালী প্রবৃত্তি আমি যেটা সহকারে এসেছি তার প্রতি অধীন হয়।”

(এই নির্ভরযোগ্য হাদিসটি নির্ভরযোগ্য ইসনাদ সহকারে হুজ্জাহ এর উপর লিখিত কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে। দেখুনঃ ইবন আবি আসিমের আস সুন্নাহ, নং ১৫; আবু আল কাসিম আল আসবাহানি’র কিতাবুল হুজ্জাহ, নং ১০৩; আল বাগাওি’র শারহ আস সুন্নাহ, নং ১০৪; আল খাতিব এর তারিখ বাগদাদ, নং ৪/৪৬৯)

হুজ্জাহ এর উপর রচিত কিতাবের লেখক হলেন শাইখ আবু আল ফাতহ নাসর বিন ইবরাহীম আল মাকদিসি আশ শাফি’ই, তিনি দামাস্কাসে বসবাস করতেন। তার কিতাবটি হল আল হুজ্জাহ আলা তারিকি সুলুক তারিক আল মাহাজ্জাহ (যারা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের আচার-ব্যবহার পরিত্যাগ করে তাদের ভ্রান্তির খণ্ডন) – এই কিতাবটিতে সুন্নাহ আলিম কতৃক স্থির করা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

হাদিসের তাফসীর

একজন ব্যক্তি কখনোই পূর্ণ বিশ্বাসী হতে পারবে না যদি তার কামনা-বাসনা আর প্রবৃত্তি রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শিক্ষা দেওয়া আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কিত কাজের প্রতি অনুগত না হয়। একজন ব্যক্তির উচিত সেটাই ভালবাসা যেটা রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছেন এবং সেটাকে ঘৃণা করা যেটার ব্যাপারে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন।

কুরআনের একাধিক আয়াতে এ অর্থটির উল্লেখ আছে, আল্লাহ বলেনঃ

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىٰ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

“না, তোমার রবের শপথ, এরা কিছুতেই ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নিবে, এরপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোন দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নিবে।” (সূরা আন নিসা, ৪ :৬৫)

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّـهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ ۗ وَمَن يَعْصِ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُّبِينًا

“আল্লাহ ও তার রসুল যখন কোন ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তখন কোন মুমিন পুরুষ ও কোন মুমিন নারীর তাদের সে ব্যাপারে নিজেদের কোন রকম এখতিয়ার থাকবে না (- যে তারা তাতে কোন রদবদল করবে)।” (সূরা আল আহযাব, ৩৩ :৩৬)

আল্লাহ নিন্দা করেছেন সেসব লোকদের, যারা আল্লাহ যা ভালবাসেন তার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে আর আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তার প্রতি ভালবাসা পোষণ করে, আল্লাহ বলেনঃ

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَرِهُوا مَا أَنزَلَ اللَّـهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ

“এর কারন হল, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন (কুরআন, ইসলামিক বিধান ইত্যাদি) সেগুলোকে তারা ঘৃণা করে, তাই আল্লাহ তাদের কর্মসমূহকে নিস্ফল করে দিয়েছেন।” (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭ :৯)

ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّـهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ

“এর কারন হল, তারা সেটাই অনুসরন করেছে যা আল্লাহ্‌কে ক্রুদ্ধ করে, আর সেটা ঘৃণা করেছে যা তাকে সন্তুষ্ট করে। তাই তিনি তাদের কর্মসমূহকে নিস্ফল করে দিয়েছেন।” (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭ :২৮)

একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহ যেটা ভালবাসেন সেটাকেই ভালবাসা, যাতে করে সে এ কারনে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে দেওয়া বাধ্যবাধকতামূলক কাজগুলো সম্পাদন করতে পারে। যদি এমন ভালবাসা বৃদ্ধি পায়, তবে সে নফল আমলগুলো সম্পাদন করবে। তার উচিত আল্লাহ যেটা ঘৃণা করেন তারও সেটা ঘৃণা করা, যাতে করে সে আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন তা বর্জন করতে পারে। যদি এমন ঘৃণার বৃদ্ধি ঘটে, সে এমনকি মাকরুহ আমলগুলোও বর্জন করবে।

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউই ঈমান আনল না যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি আমি তোমাদের নিজেদের থেকে, তোমাদের পুত্রদের থেকে, তোমাদের পরিবার ও সকল লোকজন থেকে অধিকতর প্রিয় হই।” (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস নং ১৫; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ৪৪/৬৯,৭০)

একজন আল্লাহতে বিশ্বাসী বান্দা পূর্ণভাবে বিশ্বাসী গোলাম হতে পারবে না যদি সে সকল লোকদের থেকে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালবাসার প্রতি অগ্রাধিকার না দেয়। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালবাসা হল তাকে (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যিনি পাঠিয়েছেন তার ভালবাসার প্রতি অনুগত হওয়া। সত্যিকারের ভালবাসার দাবী হল যেকোন কিছু ভালবাসা বা ঘৃণা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রিয় কারো অনুসরন করা। আল্লাহ বলেনঃ

قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّـهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّـهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّـهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ

“বলঃ যদি তোমাদের পিতাদের, তোমাদের পুত্রদের, তোমাদের স্ত্রীদের, তোমাদের স্বজাতি, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের বাণিজ্য যা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে তোমরা ভয় করো, আর তোমাদের বাস করার স্থান যা তোমাদের আনন্দিত করে – যদি এগুলো তোমাদের কাছে আল্লাহ ও তার রসূলের থেকে অধিকতর প্রিয় হয়ে থাকে এবং তার পথে জিহাদ করার থেকে অধিকতর প্রিয় হয়ে থাকে, তবে তোমরা আল্লাহ্‌র (পক্ষ থেকে তার আযাবের) ঘোষণা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।” (সূরা আত তাওবাহ, ৯ :২৪)

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّـهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّـهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ ۗ وَاللَّـهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“বলঃ যদি তোমরা সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরন করো (অর্থাৎ, ইসলামিক একত্ববাদ গ্রহণ করো, কুরআন ও সুন্নাহ’র অনুসরন করো), আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন আর তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।” (সূরা আল ইমরান, ৩ :৩১)

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যার মধ্যে তিনটি গুন থাকে সে ঈমানের স্বাদ পায় – (১) আল্লাহ ও তার রসুল অন্য সব কিছুর থেকে বেশী প্রিয় হওয়া, (২) কাউকে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র জন্যই ভালবাসা, এবং (৩) কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা।” (বুখারি – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১৫; মুসলিম – কিতাবুল ঈমান, হাদিস ৪৩/৬৭,৬৮)

যখন একজন ব্যক্তি অকপটভাবে আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) কে ভালবাসে, তখন সে আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যা ভালবাসেন সেটাই ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যা ঘৃণা করেন সেও তা-ই ঘৃণা করে; আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কাজে সন্তুষ্ট থাকে সেও সে কাজে সন্তুষ্ট থাকে এবং আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যে কাজে ক্রোধান্বিত হোন সেও সে কাজে ক্রোধান্বিত হয়। তার উচিত এই ভালবাসা ও ঘৃণা অনুসারে কাজ সম্পাদন করা। সে যদি এমন কোন কাজ করে যা কিনা আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) যা ভালবাসেন তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, অথবা এমন কোন কাজ করে যা আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ক্রোধের কারন হয়, তবে এটা এই ইঙ্গিত করে যে তার এই ভালবাসা পূর্ণ নয় এবং তার উচিত আল্লাহ্‌র কাছে তওবা করা আর আল্লাহ্‌র দিকে প্রত্যাবর্তন করা যাতে করে তার এই ভালবাসা পূর্ণতা লাভ করে।

আবু ইয়াকুব আন নাহরাজাওরি বলেন, “যদি কেউ দাবী করে যে সে আল্লাহ্‌কে ভালবাসে কিন্তু তার দেওয়া শিক্ষার প্রতি আনুগত থাকে না, তবে তার দাবী মিথ্যা। এমন প্রত্যেক ব্যক্তি – যারা আল্লাহ্‌কে ভালবাসে কিন্তু তাকে ভয় করে না, তারা মুখলিস ব্যক্তি নয়।”

ইয়াহইয়া বিন মুয়ায বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি দাবী করে যে সে আল্লাহ্‌কে ভালবাসে অথচ সে আল্লাহ্‌র দেওয়া শিক্ষার প্রতি অনুগত থাকে না, এর মানে সে এই ভালবাসার দাবীতে সত্য নয়।”

পূর্বেকার দিনের একজন কবি বলেন,

“তুমি আল্লাহ্‌কে অমান্য কর যখন কিনা তুমি দাবী করো যে তুমি তাকে ভালোবাসো

এটা তো এক জঘন্য কাজ,

তোমার ভালবাসা যদি সত্যি হতো, তবে তুমি তাকে মান্য করতে

প্রেমিক তো সবসময়ই প্রিয়কে মান্য করে।”

 

আত্মার খামখেয়ালী

সকল পাপের উৎস হল আত্মার খামখেয়ালীকে আল্লাহ ও তার রসুল (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ভালবাসার উপর অগ্রাধিকার দেওয়া। আল্লাহ মুশরিকদের চিহ্নিত করেছেন তাদের খামখেয়ালী ও প্রবৃত্তির অনুগত হিসেবে, তিনি বলেছেনঃ

فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

“তবে যদি তারা তোমার এ কথার কোন জবাব না দেয় (অর্থাৎ, ইসলামিক একত্ববাদের মতবাদে বিশ্বাস না করে অথবা তোমাকে অনুসরন না করে),তবে জেনে রাখো যে তারা কেবল তাদের নিজেদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। তার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট আর কে আছে, যে আল্লাহ’র পক্ষ থেকে কোন হিদায়াত (পাওয়া) ছাড়াই কেবল নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে ? (সূরা আল কাসাস, ২৮ :৫০)

একই বিষয় দ্বীনের মধ্যে বিদআত ও পাপসমূহের সম্পর্কে প্রযোজ্য, যেগুলোর উদ্ভব ঘটে প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশী থেকে ইসলামিক বিধান উপেক্ষা করার মাধ্যমে। লোকজনের ভালবাসাকে দ্বীনের শিক্ষার প্রতি অধীন করতে হবে। আল্লাহতে বিশ্বাসী ব্যক্তির উচিত আল্লাহ্‌কে ভালবাসা, এবং সৃষ্টি তার স্রস্টা আল্লাহ রব্বুল আ’লামিনের ভালবাসা পেয়ে থাকে যেমন ফেরেশতাগণ, নবী ও রসুলগণ, শহীদগণ আর সৎ কর্ম সম্পাদনকারীগণ।

ঈমানের মধুরতা অনুভবের একটি নিদর্শন হল আল্লাহ্‌র জন্যই লোকদের ভালবাসা এবং মুশরিকদেরকে আল্লাহ্‌র জন্যই ঘৃণা করা। এভাবে একজন ব্যক্তি দ্বীনের সকল স্তম্ভে একজন মুখলিস ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হয়। যদি একজন ব্যক্তি আল্লাহ্‌র জন্যই ভালবাসে, ঘৃণা করে, কিছু প্রদান করে বা কিছু প্রদান করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে, তবে তার ঈমান সম্পূর্ণ। এই অনুভূতিগুলো যদি তার প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশী থেকে উদ্ভুত হয়, তবে তার ঈমান অসম্পূর্ণ এবং তার অবশ্যই আল্লাহ্‌র দিকে ফিরে যাওয়া উচিত।

প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশী নিজের কামনা-বাসনা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেগুলো কিনা সত্য অনুসরনের বিপরীত, যেমনটি আল্লাহ বলেছেনঃ

وَلَا تَتَّبِعِ الْهَوَىٰ فَيُضِلَّكَ عَن سَبِيلِ اللَّـهِ

 

“এবং তোমার কামনা-বাসনার অনুসরণ করবে না, কারন এটা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ থেকে বিচ্যুত করে দিবে।” (সূরা সোয়াদ, ৩৮ :২৬)

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ ﴿٤٠﴾ فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ

“যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে (তার সামনে দাঁড়ানোর দিনকে) ভয় করেছে এবং (এ ভয়ে) নিজের নফসকে কামনা-বাসনা থেকে বিরত রেখেছে, নিঃসন্দেহে জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।” (সূরা আন নাযিয়াত, ৭৯ :৪০-৪১)

প্রবৃত্তি ও খেয়ালখুশী দ্বারা শক্তিশালী ভালবাসাকেও নির্দেশ করে। এক্ষেত্রে, এগুলো সত্য অথবা পথভ্রষ্টতা’র পথের দিকের প্রবৃত্তিকে ইঙ্গিত করে।

تُرْجِي مَن تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَن تَشَاءُ

 

“তুমি ইচ্ছা করলে তাদের (তোমার স্ত্রীদের) মধ্য থেকে কাউকে (নিজের কাছ থেকে) দূরে রাখতে পারো, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে নিজের কাছেও রাখতে পারো;” (সূরা আল আহযাব, ৩৩ :৫১)

আয়েশা (রাঃ) বলেছেন যে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) এই আয়াত সম্পর্কে বলেছেন, “আমি দেখেছি যে আল্লাহ তোমার প্রবৃত্তিগুলো পূর্ণ করে দিয়েছেন।” (বুখারি – কিতাবুত তাফসীর, হাদিস ৪৭৮৮; মুসলিম – কিতাবুর রিদা, হাদিস ১৪৬৪)

বদরের বন্দী সম্পর্কে রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) ও সাহাবীদের মধ্যকার পরামর্শের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে উমার বিন আল খাত্তাব (রাঃ) বলেন, “রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পরিবর্তে আবু বকরের মতামতের প্রতি ইচ্ছুক হলেন।” (মুসলিম – কিতাবুল জিহাদ, হাদিস ৫৮/১৭৬৩)

এমন সংজ্ঞা দিয়ে এই শব্দটি সালাফগণ কতৃক বারবার ব্যবহৃত হয় যা আসলে নির্দেশ করে আল্লাহ্‌র দিকে অন্তরের অনুরক্তিকে, যেমনটি তাদের একজন বলেছিলেন, “আমার অন্তরে থাকা আপনার প্রতি অনুরক্তি আমাকে করেছে আপনার শ্রবণকারী আর আপনার মান্যকারী। আপনার কাছে আছে আমার অন্তর আর আমি ঘুম থেকে হয়েছিলাম বঞ্চিত। আমার অন্তরকে অবকাশ দিন আর আমাকে ঘুমোতে দিন। তা সত্তেও তিনি বললেনঃ আমি দুটোই গ্রহণ করবো।”

 

হাদিসের তাফসীরটি ইমাম ইবন রজব এর কিতাব জামি‘আল ‘উলুম ওয়াল হিকাম এর ইংলিশ ভার্শন থেকে ট্রান্সলেশন করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Deejpilot থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.